যাকাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলত, যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ, নিসাব নিয়ে আলোচনা, আমার দ্বীন অ্যাপের যাকাত ক্যালকুলেটর, কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ, কাদের যাকাত দেওয়া যাবে, কাদের যাকাত দেওয়া যাবে না, যাকাত দেওয়ার সঠিক সময় কখন, যাকাত দেওয়ার উপকারিতা, যাকাত সম্পর্কিত ভুল ধারনা এবং বহুল জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্ন-উত্তর সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই আলোচনায়।

ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব ও ফজিলত

আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে আশরাফুল মাখলূকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর তাদের সার্বিক জীবন পরিচালনার জন্য ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসাবে মনোনীত করেছেন। উদ্দেশ্য হল- মানুষ ইসলামের যাবতীয় বিধান পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে। আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর দন্ডায়মান; যার অন্যতম স্তম্ভ হল যাকাত। শ্রেষ্ঠ ইবাদত সালাতের পরেই যাকাতের স্থান। কুরআনুল কারীমের অধিকাংশ জায়গায় আল্লাহ তা‘আলা সালামের পরেই যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব যাকাতের বিধান ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, যা আদায় করা সামর্থ্যবান সকলের উপর অপরিহার্য। এছাড়াও, যাকাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হল-

যাকাত পূর্ণাঙ্গ ইসলাম মানার অন্যতম মাধ্যম

যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। একে বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলাম মানা সম্ভব নয়। আর পূর্ণ মুমিন হওয়ার জন্য ইসলামের যাবতীয় বিধান মানা অবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

أَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُوْنَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّوْنَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ

‘তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে ঈমান রাখ আর কিছু অংশ অস্বীকার কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা তা করে, দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ব্যতীত তাদের কি প্রতিদান হ’তে পারে? ক্বিয়ামত দিবসে তাদেরকে কঠিনতম আযাবে নিক্ষেপ করা হবে। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে উদাসীন নন’ (বাক্বারাহ ২/৮৫)।

যাকাত ঈমানের সত্যায়নকারী

পৃথিবীতে মানুষের নিকটে সবচেয়ে প্রিয় বস্তু হল তার ধন-সম্পদ। আর সে কখনই তা দান করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাঁর নিকটে অধিক প্রিয় না হয়।

যাকাত অন্তরে প্রশান্তি লাভের মাধ্যম

মানুষের সম্পদ যত বেশীই হোক না কেন, যদি তার কোন প্রতিবেশী অনাহারে দিন কাটায় তাহলে সে কখনও তার অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারে না। বরং যখন তার সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ ঐ গরীব লোকটিকে দিয়ে সচ্ছল করে, তখন সে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করে। প্রত্যেক মানুষ যেহেতু তার সম্পদকেই অধিক ভালবাসে। এমনকি সম্পদের জন্য মানুষ নিজের জীবন বিলিয়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করে না, সেহেতু সেই অধিক ভালবাসার বস্তুকে অন্যের জন্য পছন্দ করার মাধ্যমেই পূর্ণ ঈমানদার হওয়া সম্ভব। নবী করীম (সা:) বলেছেন,

لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيْهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ

‘তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।

যাকাত জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন,

إِنَّ فِيْ الْجَنَّةِ لَغُرْفَةً، قَدْ يُرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا، وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا، أَعَدَّهَا اللهُ لِمَنْ أَطْعَمَ الطَّعَامَ، وَأَلاَنَ الْكَلاَمَ، وَتَابَعَ الصِّيَامَ، وَصَلَّى بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ

‘জান্নাতের মধ্যে এমন সব (মসৃণ) ঘর রয়েছে যার বাইরের জিনিস সমূহ ভিতর হতে এবং ভিতরের জিনিস সমূহ বাহির হতে দেখা যায়। সে সকল ঘরসমূহ আল্লাহ তা‘আলা সেই ব্যক্তির জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন যে ব্যক্তি (মানুষের সাথে) নম্রতার সাথে কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করে (যাকাত আদায় করে), পর পর সিয়াম পালন করে এবং রাতে সালাত আদায় করে অথচ মানুষ তখন ঘুমিয়ে থাকে’।

যাকাত মুসলিম ঐক্যের সোপান

যাকাত আদায়ের মাধ্যমে মুসলিম ঐক্য সুদৃঢ় হয়। এমনকি এটি সমগ্র মুসলিম জাতিকে একটি পরিবারে রূপান্তরিত করে। ধনীরা যখন গরীবদেরকে যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করে তখন গরীবরাও তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ধনীদের উপর সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। ফলে তারা পরস্পরে ভাই ভাই হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللهُ إِلَيْكَ ‘তুমি অনুগ্রহ কর যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন’ (ক্বাছাছ ৭৭)। 

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন,

الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ، لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ، وَمَنْ كَانَ فِيْ حَاجَةِ أَخِيْهِ كَانَ اللهُ فِيْ حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ-

‘এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার উপর যুলুম করবে না এবং তাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ  কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন’।

যাকাত দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান মাধ্যম

প্রাচীনকাল হতে মানুষ দু’টি শ্রেণীতে বিভক্ত। ধনী ও দরিদ্র। ধনিক শ্রেণীর সম্পদের আধিক্য সীমা ছাড়িয়ে গেছে, আর দরিদ্র শ্রেণী ক্ষীণ হতে হতে মাটির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। তেলহীন প্রদীপের ন্যায় নিভু নিভু জীবন প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে মাত্র। এর কারণ হল, প্রাচীন ধর্মগ্রন্থসমূহ দরিদ্রের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শনে উৎসাহ দিলেও তা বাধ্যতামূলক করেনি এবং দানের পরিমাণও নির্ধারণ করেনি। পক্ষান্তরে ইসলাম ‘যাকাত’ নামে এমন এক বিধান দিয়েছে, যার মাধ্যমে ধনীদের সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্রের মাঝে বণ্টন বাধ্যতামূলক করে দারিদ্র্য বিমোচনে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন,

أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِيْ أَمْوَالِهِمْ، تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ-

‘আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর তাদের সম্পদের মধ্য থেকে সাদাকা (যাকাত) ফরজ করেছেন। যেটা ধনীদের নিকট থেকে গৃহীত হবে আর দরিদ্রের মাঝে বণ্টন হবে’।

অতএব ধনীদের সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ গরীবদের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমেই কেবল দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি কখনোই দারিদ্র্য দূর করতে পারে না। বর্তমান সৌদি আরবের দিকে লক্ষ্য করলেই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। যেখানে যাকাত ব্যবস্থা চালু থাকার কারণে যাকাত গ্রহণ করার মত দরিদ্র মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে সেই যাকাতের অর্থ অন্য রাষ্ট্রে প্রেরণ করতে হয়। পক্ষান্তরে ক্ষুদ্র ঋণের দোহাই দিয়ে যে দেশে যত সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি চলছে সে দেশে তত দরিদ্রের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যাকাত মানুষকে অর্থনৈতিক পাপ থেকে রক্ষা করে 

চুরি, ডাকাতিসহ অর্থ সম্পর্কিত অন্যান্য পাপ সমূহ থেকে মানুষকে রক্ষা করার অন্যতম মাধ্যম হল যাকাত। কেননা অর্থ সংকটের কারণেই মানুষ বাধ্য হয়ে চুরি-ডাকাতির মত জঘন্যতম অপরাধ করতে বাধ্য হয়। ধনীরা তাদের সম্পদ থেকে যাকাতের নির্দিষ্ট অংশ দ্বারা যখন গরীবরেদকে সহযোগিতা করবে ও তাদের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে, তখন তারা অবশ্যই উল্লিখিত অপরাধ থেকে বিরত থাকবে।

যাকাত আদায় করলে সম্পদ বৃদ্ধি পায়

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, يَمْحَقُ اللهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيْمٍ ‘আল্লাহ সূদকে ধ্বংস করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ কোন অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালবাসেন না’ (বাক্বারাহ ২/২৭৬)। অতএব যাকাত আদায় করলে এবং দান করলে সম্পদ কমে যায় না। বরং তা বৃদ্ধি পায়। যে কোন মাধ্যমে আল্লাহ তার রিযিক বৃদ্ধি করে দেন। রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন,

مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ وَمَا زَادَ اللهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلاَّ عِزًّا وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلاَّ رَفَعَهُ اللهُ-

‘দান সম্পদ কমায় না; ক্ষমা দ্বারা আল্লাহ কোন বান্দার সম্মান বৃদ্ধি ছাড়া হ্রাস করেন না এবং যে কেহ আল্লাহর ওয়াস্তে বিনয় প্রকাশ করে, আল্লাহ তাকে উন্নত করেন’।

যাকাত কল্যাণ নাযিলের মাধ্যম

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন,وَلَمْ يَمْنَعُوْا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ إِلاَّ مُنِعُوْا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ ‘তারা তাদের সম্পদের যাকাত আদায়কে বাধা দেয় না। বরং আকাশ হতে (রহমতের) বৃষ্টি বর্ষণকে বাধা দেয়’। যাকাত দান করলে আল্লাহর রহমতের বর্ষণ হয়।

যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ

  • নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া। অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা,কিংবা সমপরিমাণ মূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসার মালের মালিক হওয়া।
  • মুসলমান হওয়া। কাফেরের উপর যাকাত ফরজ নয়।
  • বালেগ হওয়া। নাবালেগের উপর যাকাত ফরজ নয়।
  • জ্ঞানী ও বিবেক সম্পন্ন হওয়া। সর্বদা যে পাগল থাকে তার নেসাব পরিমাণ মাল থাকলেও তার উপর যাকাত ফরজ নয়।
  • স্বাধীন বা মুক্ত হওয়া। দাস-দাসীর উপর যাকাত ফরজ নয়।
  • মালের উপর পূর্ণ মালিকানা থাকা। অসম্পূর্ণ মালিকানার উপর যাকাত ফরজ হয় না।
  • নেসাব পরিমাণ মাল নিত্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অতিরিক্ত হওয়া।
  • নেসাব পরিমাণ মালের উপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া।
  • মাল বর্ধনশীল হওয়া। 

হযরত আবু আইয়ুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত- এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আপনি আমাকে এমন একটি কাজ সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, যাকাত দেবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখবে। (বুখারি)

নিসাব নিয়ে আলোচনা

নিসাব হলো, ন্যূনতম সেই পরিমাণ সম্পদ, যার মালিকানার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর যাকাত ফরজ হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর এক বছরের জন্য কমপক্ষে ৮৫ গ্রাম সোনা বা ৫৯৫ গ্রাম রূপা অথবা এর কোনো একটির সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা অন্যান্য সম্পদ কোনো ব্যক্তির মালিকানায় থাকলে সেই ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী। এরূপ নিসাব পরিমান সম্পদ থাকলে কোনো ব্যক্তির প্রতি যাকাত অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট সম্পদ থেকে ২.৫% হারে যাকাত আদায় করা তার উপর ফরজ।

কোনো ব্যক্তির আয়ের ভিত্তিতে ব্যক্তির ওপর ট্যাক্স আরোপিত হয় এবং তদনুসারেই এর পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। অনুরূপভাবে, ইসলামী আইনে কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণের ভিত্তিতেই যাকাত নিরূপিত হয়। ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত একটি ন্যূনতম নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক না হন, ততক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তির ওপর যাকাত অপরিহার্য নয়। শরী‘আহ আইনে ঐ ন্যূনতম নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদকে ‘নিসাব’ বলা হয়। যে সকল সম্পদের যাকাত দিতে হবে, যাকাত প্রযোজ্য হয় এমন প্রধান সম্পদগুলো হলোঃ নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রূপা, গবাদিপশু ও সব ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ।

স্বর্ণের নিসাব

স্বর্ণের নিসাব ২০ দিরহাম স্বর্ণ, যা ওজন করলে ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ হয়। কারও মালিকানাধীন যদি ৮৫ গ্রাম বা ততোধিক স্বর্ণ থাকে, ক্যারেট যাই হোক, তার ওপর হিজরী এক বছর পূর্ণ হলে যাকাত ওয়াজিব হবে। যাকাতের পরিমাণ এক-দশমাংশের এক চতুর্থাংশ, অর্থাৎ মোট স্বর্ণের ২.৫ পার্সেন্ট।

যাকাত দেওয়ার নিয়ম

প্রথমে ব্যক্তির মালিকানায় যে ক্যারেট স্বর্ণ রয়েছে সেই ক্যারেটের একগ্রাম স্বর্ণের বাজার দর জানবে। যদি একাধিক ক্যারেটের স্বর্ণ থাকে, যে ক্যারেট স্বর্ণ বেশি আছে তার বাজার দর জানবে, অতঃপর একগ্রাম স্বর্ণের মূল্যকে তার নিকট যে ক’গ্রাম স্বর্ণ রয়েছে তার সংখ্যা দিয়ে গুন দিবে। এভাবে স্বর্ণের গ্রামকে মুদ্রায় পরিণত করবে, অতঃপর ক্যালকুলেটর দিয়ে মোট মূল্য থেকে ২.৫% বের করবে, যে অংক আসবে তাই স্বর্ণের যাকাত।

উদাহরণ

কেউ ২১ ক্যারেট ১০০ গ্রাম স্বর্ণের মালিক, সে তার যাকাত বের করার জন্য প্রথম ২১ ক্যারেট স্বর্ণের বাজার দর জানবে, যদি একগ্রাম স্বর্ণের দাম হয় ১০,০০০ টাকা, যাকাতের হিসেব হবে নিম্নরূপ: ১০০ (গ্রাম স্বর্ণ)* ১০,০০০ (টাকা, যা একগ্রাম স্বর্ণের মূল্য)* ২.৫% (যাকাত) অর্থাৎ ১০০* ১০,০০০* ২.৫%=২৫০০০ টাকা।

রূপার নিসাব

২০০ দিরহাম রূপা, যা ওজন করলে ৫৯৫ গ্রাম হয়। কারও মালিকানায় যদি ২০০ দিরহাম বা তার চেয়ে বেশি রূপা থাকে এবং তার ওপর হিজরী এক বছর পূর্ণ হয়, তবেই তাতে যাকাত ফরয হবে। যাকাতের পরিমাণ: এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ মোট রূপার ২.৫%।

যাকাত দেওয়ার নিয়ম

যে ক্যারেট রূপা তার কাছে রয়েছে, প্রথম তার বাজার দর জানবে, আর যদি একাধিক ক্যারেটের রূপা থাকে, যে ক্যারেট রূপা বেশি রয়েছে তার বাজার দর জানবে। অতঃপর যত গ্রাম রূপা তার মালিকানায় রয়েছে তার সংখ্যা দিয়ে একগ্রাম রূপার বাজার দরকে গুণ দিবে, গুণফল থেকে ২.৫% যাকাত বের করবে, যে অংক বের হবে সেটি ৫৯৫ গ্রাম রূপার যাকাত।

উদাহরণ

কেউ ৮০ ক্যারেটের ৬০০ গ্রাম রূপার মালিক, সে যখন তার যাকাত বের করার ইচ্ছা করবে প্রথমে একগ্রাম ৮০ ক্যারেট রূপার বাজার দর জানবে। যদি মনে করি একগ্রাম রূপার মূল্য ১০০ টাকা, নিম্নের নিয়মে যাকাত বের করবে: ৬০০ (গ্রাম রূপা)* ১০০ (টাকা, যা একগ্রাম-রূপার মূল্য)* ২.৫% = ১৫০০ টাকা। অর্থাৎ একগ্রাম রূপার মূল্য যদি হয় ১০০ টাকা, ৬০০ গ্রাম রূপার যাকাত আসবে ১৫০০ টাকা।

“আমার দ্বীন” অ্যাপের যাকাত ক্যালকুলেটর

  • “আমার দ্বীন” অ্যাপে “যাকাত ক্যালকুলেটর” অপশনে গিয়ে খুব সহজেই আপনার যাকাতের পরিমান দেখে নিতে পারবেন।
  • বর্তমানে বাংলাদেশের স্বর্ণ বা রূপার বাজারমূল্যের শেষ আপডেট জানতে পারবেন এবং ১৮-২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ বা গহনা থাকলে কতটুকু সম্পদ যাকাত দিতে হবে খুব সহজে তা হিসাব করতে পারবেন।
  • নগদ বা ব্যাংকে জমাকৃত টাকার কতটুকু যাকাত দিতে হবে সেটার পরিমান সহজেই হিসাব করে নিতে পারবেন।
  • এছাড়াও অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের কতটুকু যাকাত দিতে হবে সেটাও জেনে নিতে পারবেন।
  • আপনার মোট সম্পদ হিসাব করে জেনে নিতে পারবেন আপনার উপর যাকাত ফরজ হয়েছে কিনা।

সর্বোপরি, গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু তথ্যসহ “আমার দ্বীন” এর যাকাত ক্যালকুলেটরের অংশটি সাজানো হয়েছে। বিস্তারিত জানতে আজই ডাউনলোড করুন “আমার দ্বীন” অ্যাপ।

কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ

  • সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর যাকাত ফরজ হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে যাকাত ফরজ হয়।
  • সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক সর্বাবস্থাতেই তার যাকাত দিতে হবে।-আবু দাউদ ১/২৫৫;  সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১,৭০৬৩-৭০৬৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদিস ৯৯৭৪;৬/৪৬৯-৪৭১
  • অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও যাকাত ফরজ হয়।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস ৭০৬১; ৭০৬৬; ৭১০২
  • জামা-কাপড় কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকাজ করা থাকলে তাও যাকাতের  হিসাবের  অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে পরিমাণ সোনা-রুপা কারুকাজে লেগেছে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে তারও যাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদিস ৭০৬৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস ১০৬৪৮,১০৬৪৯,১০৬৫১
  • সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকার ইত্যাদির ওপর যাকাত ফরয নয়। তদ্রূপ হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান পাথর ব্যবসাপণ্য না হলে সেগুলোতেও যাকাত ফরয নয়।-কিতাবুল আছার মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬১-৭০৬৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৪৭-৪৪৮
  • মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার যাকাত আদায় করা ফরজ হয়।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১,৭০৯২
  • তদ্রূপ  ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও যাকাত ফরজ হয়।
  • টাকা-পয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও তাতে যাকাত ফরজ হয়।-আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২,৩০০
  • হজের উদ্দেশ্যে কিংবা ঘর-বাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হচ্ছে তা-ও এর ব্যতিক্রম নয়। সঞ্চিত অর্থ পৃথকভাবে কিংবা অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ  হলে এবং নিসাবের ওপর এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরজ হবে। বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তা যদি খরচ হয়ে যায় তাহলে যাকাত ফরজ হবে না।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৩২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫
  • দোকান-পাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে তা বাণিজ্য-দ্রব্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করা ফরজ।-সুনানে আবু দাউদ ১/২১৮; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/১৫৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক পৃ ১০৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৫৫৭, ১০৫৬০, ১০৫৬৩
  • ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন জমি-জমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর যেমন মুদি সামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়ার সামগ্রী, বইপুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দেয়া ফরজ হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪
  • স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হলো ২০ দিরহাম।-সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদিস ৭০৭৭, ৭০৮২
  • রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হলো ২০০ দিরহাম।-সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৭৯

আধুনিক হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা। এ পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে যাকাত দিতে হবে।

  • প্রয়োজনের উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা বা বাণিজ্য-দ্রব্যের মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হয় তাহলে যাকাতের নিসাব পূর্ণ হয়েছে ধরা হবে এবং এর যাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৬৭৯৭,৬৮৫১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা  ৯৯৩৭
  • যদি সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সব সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬৬,৭০৮১
  •  কারো কাছে নিসাবের কম সোনা এবং নিসাবের কম রুপা আছে, কিন্তু যে পরিমাণ সোনা আছে তার মূল্য মজুদ রুপার সাথে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য হয় বা তার চেয়ে বেশি হয়। তাহলে সোনা-রুপার মূল্য হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৯,১০৬৪৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩
  • কারো কাছে কিছু স্বর্ণালংকার আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এর যাকাত দিতে হবে। -রদ্দুল মুহতার ২/৩০৩
  • কারো কাছে নিসাবের কম রুপা আর কিছু উদ্বৃত্ত টাকা বা বাণিজ্যদ্রব্য আছে যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়। এরও যাকাত দিতে হবে। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৩
  • নিসাবের অতিরিক্ত সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা ও বাণিজ্যদ্রব্যের যাকাত আনুপাতিক হারে দিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদিস ৭০৩২, ৭০৭৪, ৭০৭৫, ৭০৭৯, ৭০৮০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৯
  • কারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য পৃথকভাবে বা সম্মিলিতভাবে নিসাব পরিমাণ ছিল, বছরের মাঝে এ জাতীয় আরও কিছু সম্পদ কোনো সূত্রে পাওয়া গেল এক্ষেত্রে নতুন প্রাপ্ত সম্পদ পুরাতন সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং পুরাতন সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের যাকাত দিতে হবে। বছরের মাঝে যা যোগ হয়েছে তার জন্য পৃথক বছর পূর্ণ হওয়া লাগবে না।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদিস ৬৮৭২,৭০৪০,৭০৪৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১০৩২৫,১০৩২৭
  • বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে যাকাত আদায় করতে হবে। অবশ্য বছরের মাঝে যদি সম্পূর্ণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে ওই সময় থেকে নতুন করে বছরের হিসাব আরম্ভ হবে এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৪২,৭০৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০২

কাদের যাকাত দিতে হবে?

  • যে দরিদ্র ব্যক্তির কাছে অতি সামান্য সম্পদ আছে অথবা কিছুই নেই, এমনকি একদিনের খাদ্যও নেই, শরীয়তের দৃষ্টিতে সে গরিব। তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।
  • যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অন্য সম্পদও নিসাব পরিমাণ নেই, তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।-মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১০৫৩৬
  • যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত এবং ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই, তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।
  • কোনো ব্যক্তি নিজ শহরে ধনী হলেও সফরে এসে অভাবে পড়ে গেলে বা তার মালামাল চুরি হয়ে গেলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। তবে সে শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী নিতে পারবে।
  • যাকাত এমন দরিদ্রকে দেওয়া উত্তম যে দ্বীনদার। তবে দ্বীনদার নয় এমন লোক যদি উপযুক্ত হয় তাহলে তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে। কিন্তু যদি প্রবল ধারণা হয় যে সে টাকা গুনাহের কাজে ব্যয় করবে তাহলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
  • যাকাত শুধু মুসলমানদেরকেই দেওয়া যাবে। কোনো অমুসলিমকে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে না। তবে নফল দান অমুসলিমকে করা যাবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক ৭১৬৬, ৭১৬৭, ৭১৭০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৬/৫১৬-৫১৭
  • যাকাতের টাকা যাকাতের হকদারদের মালিকানায় পৌঁছাতে হবে। অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করলে যাকাত আদায় হবে না। যেমন- রাস্তা নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, কূপ খনন, বিদ্যুৎ বা পানির ব্যবস্থা ইত্যাদি।
  • যাকাত আদায়ের জন্য শর্ত হলো উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। যদি নিজের সিদ্ধান্তে তার ঘর মেরামত করে দেওয়া হয় বা বিদ্যুৎ-পানির ব্যবস্থা করা হয় তাহলে যাকাত আদায় হবে না। নিয়ম হলো দরিদ্র ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দেওয়া। এরপর সে নিজের ইচ্ছায় ব্যয় করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। -রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭
  • আত্মীয়-স্বজন যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাদের দেওয়া উত্তম। যেমন- ভাই-বোন, চাচা-মামা, ফুফু-খালা, ভাতিজা-ভাগনে।
  • যাকাতের কথা উল্লেখ না করে মনে মনে নিয়ত করলেও যাকাত আদায় হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক ৭১৬০–৭১৭১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৬/৫৪২-৫৪৬

যাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে না

  • যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ যেমন সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা বা বাণিজ্যদ্রব্য নিসাব পরিমাণ আছে সে ধনী। তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
  • যে ব্যক্তির কাছে যাকাতযোগ্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ নেই, কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন সম্পদ আছে যাতে যাকাত আসে না। যেমন আসবাবপত্র, পোশাক, জুতা বা গার্হস্থ্য সামগ্রী- এগুলো নিসাব পরিমাণ হলে তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে না। তার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। -মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক ৭১৫৬
  • যাকাতের টাকা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করলে যাকাত আদায় হবে না। যেমন- রাস্তা নির্মাণ, সেতু নির্মাণ।
  • যাকাতের টাকা দ্বারা মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ, ইসলাম প্রচার, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন, ওয়াজ মাহফিল বা দ্বীনি বই প্রকাশ করা জায়েজ নয়। যাকাতের টাকা হকদারকেই দিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাজযাক ৬৯৪৭, ৬৯৪৮, ৭১৩৭, ৭১৭০
  • নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী এবং ঊর্ধ্বতন বংশধরকে যাকাত দেওয়া যাবে না। তেমনি নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং অধস্তন বংশধরকে যাকাত দেওয়া যাবে না। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দিতে পারবেন না। -রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮
  • কাজের ছেলে বা মেয়েকে যাকাত দেওয়া যাবে যদি তারা উপযুক্ত হয়। কিন্তু পারিশ্রমিক হিসেবে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে না। আগেই চুক্তিকৃত টাকা যাকাত হিসেবে দেওয়া যাবে না।
  • কাউকে যাকাত দেওয়ার পর জানা গেল সে ধনী ছিল, তবুও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে গ্রহীতা জানলে টাকা ফেরত দেওয়া তার জন্য ওয়াজিব।
  • যাকাত দেওয়ার পর জানা গেল গ্রহীতা অমুসলিম ছিল, তাহলে যাকাত আদায় হবে না। পুনরায় যাকাত দিতে হবে।
  • বুঝমান অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েকেও যাকাত দেওয়া যায়। -রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭, আলবাহরুর রায়েক ২/২০১ 

যাকাত দেওয়ার সঠিক সময় কখন

যাকাত দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়ের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রমজান মাসই যাকাত আদায়ের সর্বোত্তম সময়। ফলে বিত্তবানেরা দান-সদকা ও যাকাত-ফিতরা প্রদানে উৎসাহিত হন। রমজান মাসে দান-সদকা করলে অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি নেকি হয়। যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একটি নফল ইবাদত করেন, তবে তিনি মাহে রমজানে একটি ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাবেন। যিনি একটি ফরজ আদায় করবেন, তিনি অন্যান্য মাসের ৭০টি ফরজের সমান সওয়াব পাবেন। তাই রমজান মাসে রোজাদার মুমিন বান্দারা একসঙ্গে গরিবের হক যাকাত ও ফিতরা এ দুটি আর্থিক ইবাদত করে থাকেন।

যাকাত দেওয়ার উপকারিতা

যাকাত ও সদকা দেওয়ার নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। ইহকাল ও পরকাল উভয়কালেই এর উপকারিতা রয়েছে। যাকাত দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে সম্পদ পবিত্র হয়, অন্যদিকে আল্লাহ তাআলা এর বরকতে প্রবৃদ্ধি ও প্রাচুর্য দান করেন। তবে, যাকাত দেওয়ার বিশেষ উপকারিতা হল- 

অর্থের প্রবাহ বা সঞ্চালন

যাকাত দিলে নগদ অর্থ হাতবদল হয়। এতে সম্পদে গতিশীলতা আসে। যাতে প্রচুর লোক ক্রয়ক্ষমতা অর্জন করে, তাতে চাহিদা বা ভোক্তা সৃষ্টি হয়। ক্রেতা সৃষ্টি হলে উৎপাদন বৃদ্ধি হয়, শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা হয়, কর্মসংস্থান হয়। যার ফলে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়।

দারিদ্র্য বিমোচন

সঠিকভাবে যথাযথ নিয়মে যাকাত আদায় বা প্রদান করলে সমাজের দারিদ্র্য দূরীভূত হবে, অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং আর্থিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে জাতি রক্ষা পাবে। সর্বোপরি সুদ থেকে মুসলমানরা রক্ষা পাবে।

মানবিক উন্নয়ন

যাকাত আদায়ের মাধ্যমে খাই খাই মানসিকতার অবসান হয়, দাতার তালিকায় নাম ওঠে এবং আত্মসম্মান ও মর্যাদাবোধ সৃষ্টি হয়। এতে ধনী-গরিবের বিভেদ দূর হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা সম্প্রীতি তৈরি হয়, সহমর্মিতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবলয় গঠিত হয়; এতে দাতা-গ্রহীতা উভয়ের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হয়। সমাজদেহ থেকে কার্পণ্য, লোভ, মোহ এবং হিংসা, পরশ্রীকাতরতাসহ নানাবিধ দুষ্ট উপসর্গ দূরীভূত হয়।

যাকাত সম্পর্কিত ভুল ধারনা

  • যাকাতবর্ষ কবে পূর্ণ হয় তা যথাযথভাবে হিসাব না রাখা। শুধু প্রতি রমজানে জাকাত আদায় করা, এটা ঠিক না। কারণ, বাস্তবে যদি রমজানের আগেই আপনার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে রমজানের আগেই যাকাত দিতে হবে। 
  • যথাযথ হিসাব না করে অনুমান করে যাকাত আদায় করা।
  • অনেকেই মনে করেন, নগদ টাকার যাকাত হিসাব করতে স্বর্ণের নিসাব ধরতে হবে। তাই তারা ভাবেন, সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের সমান টাকা না হলে যাকাত দিতে হবে না। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। নগদ টাকা বা ক্যাশের ক্ষেত্রে রূপার নিসাব ধরা হয়। এমনকি কারও কাছে যদি সাড়ে সাত ভরির কম স্বর্ণ থাকে এবং তার সঙ্গে কিছু নগদ টাকা থাকে, তবুও এখানে স্বর্ণের নিসাব নয়; রূপার নিসাব অনুযায়ী যাকাত হিসাব হবে।
  • অনেকের ধারণা, প্রতি টাকায় এক বছর অতিক্রান্ত হতে হবে। এটিও একটি ভুল ধারণা। যাকাত আদায় আবশ্যক হওয়ার জন্য প্রতি টাকায় স্বতন্ত্র এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া জরুরি না। যেদিন যাকাতবর্ষ পূর্ণ হবে সেদিন হাতে নগদ টাকা যা থাকবে সবগুলোর আড়াই পার্সেন্ট যাকাত হিসেবে আদায় করতে হবে। এমনকি একদিন আগে যে টাকা হাতে এসেছে এরও যাকাত দিতে হবে।
  • যাকাত হিসাবে বাজারে প্রচলিত যাকাতের শাড়ি ও লুঙ্গি আদায় করা ঠিক না। প্রথমতঃ যাকাত হিসেবে নগদ ক্যাশ আদায় করা নিয়ম। কারণ এর মাধ্যমে যাকাতগ্রহীতা তার সব ধরনের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। দ্বিতীয়তঃ এসব কাপড় থাকে খুবই নিম্নমানের। যা খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, অতএব এ থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • অনেকের ধারণা যাকাত আদায় করলে সম্পদ হ্রাস পায়। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সুদ সম্পদ বৃদ্ধি করে এ ধারণা যেমন সঠিক নয়, তেমনি যাকাত সম্পদ হ্রাস করে এটাও ঠিক নয়। সম্পদের মালিক আল্লাহ। তিনি আমাদের সম্পদ দান করেন। তিনি স্বয়ং ঘোষণা দিয়েছেন, যাকাতে সম্পদ হ্রাস হয় না; বরং বৃদ্ধি পায়।
  • বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যাকাত প্রদান ঠিক না। এতে যাকাতের উপযুক্ত কাউকে মালিকানা প্রদান করে যাকাত আদায় করা হয় না। অতএব এভাবে যাকাত দিলে তা আদায় হবে না।
  • মসজিদের দান বাক্সে বা নির্মাণ কাজে যাকাত দেওয়া যাবে না।
  • মাদরাসার নির্মাণ কাজ, মাদরাসার উস্তাদদের বেতন-ভাতা বাবদ যাকাত প্রদান করা যাবে না।
  • রমজানের হাফেজদের তারাবির বিনিময়ে হাদিয়ার নামে যাকাতের অর্থ দেওয়া যাবে না।
  • অনেক নারী তাদের ব্যবহৃত স্বর্ণ-রূপার অলংকারের যাকাত আদায় করেন না। এটা মোটেও ঠিক না। এ ব্যাপারে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যেসব নারী স্বর্ণ-রূপার অলংকারের যাকাত প্রদান করে না; তাদেরকে কেয়ামতের দিন আগুনের অলংকার পরিধান করানো হবে। অতএব এ ব্যাপারে নারীদের পাশাপাশি পিতা ও স্বামীদের সচেতন হওয়া আবশ্যক।
  • কাজের বুয়াকে যাকাত দেওয়া ভুল। অনেকে ঈদের সময় যাকাতের টাকা থেকে তাদের বেতন বাড়িয়ে দেয়। যা বৈধ নয়। কারণ পারিশ্রমিক বাবদ যাকাত আদায় করা যায় না। তবে, তাদেরকে যাকাত দিতে হলে বেতন-বোনাস বাদ দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে দিতে হবে (যদি তারা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়)।
  • সুদি উপার্জন বা উপার্জনের পুরোটাই সুদি। যদিও সুদের অর্থে যাকাত নেই। এর পুরোটাই সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দানযোগ্য। তদুপরি পুরোটা দান সম্ভব না হলে যাকাত আদায় করে যাওয়া উচিত। এতে কিছু হলেও দান হবে।
  • যাকাত আদায়ে নিজ আত্মীয়দের মাঝে যারা উপযুক্ত তাদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করে যাকাত দেওয়া উচিত। অনেকেই এ ব্যাপারে অবহেলা করেন, এ বিষয়ে সতর্কতা কাম্য।
  • যে কোনোভাবে খরচ করা যাকাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয়। অনেক বিত্তশালী মনে করেন, আমরা তো বিভিন্ন উপলক্ষ্যে খরচ করে থাকি। অসহায়দের মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকি। অফিসের কোনো কর্মচারী অসুস্থ হলে চিকিৎসা খরচ বহন করি। এভাবে পুরো বছর বহু আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। সুতরাং আমাদের জন্য আলাদা করে জাকাত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটা ভুল ধারনা। 

FA Q – বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমুহ

প্রশ্নঃ আত্মীয়কে কি যাকাত দেওয়া যায়?

উত্তরঃ হ্যাঁ, দরিদ্র আত্মীয়কে যাকাত দেওয়া যায়।

প্রশ্নঃ স্বর্ণের যাকাত কখন দিতে হয়?

উত্তরঃ যদি কারও কাছে সাড়ে সাত ভরি বা তার বেশি স্বর্ণ থাকে এবং তা এক বছর পূর্ণ হয়, তাহলে সেই স্বর্ণের উপর যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নঃ ব্যবহৃত গহনার উপর কি যাকাত আছে?

উত্তরঃ অনেক আলেমের মতে, নারীদের ব্যবহৃত স্বর্ণের গহনাও যদি নিসাব পরিমাণ হয় তাহলে তার উপর যাকাত দিতে হবে। তাই অধিকাংশ আলেমের মতে গহনার যাকাত দেওয়া উত্তম।

প্রশ্নঃ ব্যাংকে রাখা টাকার উপর কি যাকাত দিতে হয়?

উত্তরঃ হ্যাঁ। ব্যাংকে জমা টাকা যদি নিসাব পরিমাণ হয় এবং এক বছর থাকে, তাহলে সেই টাকার উপর ২.৫% যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নঃ যাকাত কি টাকা ছাড়া অন্যভাবে দেওয়া যায়?

উত্তরঃ যাকাত টাকা দিয়ে দেওয়া উত্তম। তবে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য, কাপড় বা প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েও যাকাত দেওয়া যেতে পারে, যদি তার মূল্য যাকাতের সমান হয়।

প্রশ্নঃ যাকাত কি কিস্তিতে দেওয়া যায়?

উত্তরঃ হ্যাঁ, প্রয়োজনে যাকাত কিস্তিতে দেওয়া যায়। তবে বছর শেষ হওয়ার আগেই পুরো যাকাত পরিশোধ করা উত্তম।

প্রশ্নঃ যাকাত না দিলে কী হবে?

উত্তরঃ যাকাত ফরজ ইবাদত। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে যাকাত না দিলে তা বড় গুনাহ। কুরআন ও হাদিসে এ ব্যাপারে কঠিন সতর্কবার্তা এসেছে।

প্রশ্নঃ যাকাত ও ফিতরার মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তরঃ যাকাত একটি ফরজ ইবাদত যা সম্পদের উপর দেওয়া হয়। অন্যদিকে ফিতরা (সাদাকাতুল ফিতর) ঈদের আগে প্রত্যেক মুসলিমের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি দান।

প্রশ্নঃ যাকাত কি রমজানের আগেও দেওয়া যায়?

উত্তরঃ হ্যাঁ, নিসাব পূর্ণ হলে রমজানের আগেও যাকাত দেওয়া যায়।

প্রশ্নঃ যাকাত বছরে কতবার দিতে হয়?

উত্তরঃ যাকাত সাধারণত বছরে একবার দিতে হয়। যখন কোনো সম্পদ নিসাব পরিমাণে পৌঁছে এবং এক বছর পূর্ণ হয়, তখন সেই সম্পদের উপর যাকাত দিতে হয়।

প্রশ্নঃ যাকাত কি অনলাইনে দেওয়া যায়?

উত্তরঃ হ্যাঁ, বর্তমানে অনেক ইসলামিক সংস্থা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইনেও যাকাত দেওয়া যায়, যদি তা সঠিকভাবে গরিবদের কাছে পৌঁছায়।

প্রশ্নঃ যাকাতের টাকার পরিমান কিভাবে হিসাব করবো?

উত্তরঃ “আমার দ্বীন” অ্যাপের যাকাত ক্যালকুলেটর এর মাধ্যমে খুব সহজেই যাকাতের টাকার পরিমাণ হিসাব করে নিতে পারবেন।