কেন লাইলাতুল কদরের রাতকে “হাজার মাসের চেয়ে উত্তম” বলা হয়
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ২৬ রমজান দিবাগত ২৭ রমজানের রাতে প্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। এই রাত বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদাপূর্ণ রাত। এই রাতকে আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’ বা কদর রজনী বলা হয়।
এই রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বান্দাদের ডেকে ডেকে বলেন, “কে আছো অসুস্থ, আমার কাছে চাও আমি আরোগ্য দান করব, কে আছো অভাবগ্রস্ত, আমার কাছে চাও আমি প্রাচুর্য দান করব, কে আছো বিপদগ্রস্ত আমার কাছে চাও, আমি বিপদমুক্ত করে দেব।’ এভাবে বান্দার সব প্রয়োজনের কথা বলতে থাকেন।” (মুসনাদে আহমাদ)
এই রাতকে এত মর্যাদা দেওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এ রাতে কুরআন মাজিদ লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হয়। তাই এই রাত ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এছাড়াও, এ রাতে জিবরাঈল (আ.) সহ অসংখ্য ফেরেশতা রহমত ও বরকত নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। কুরআনে বলা হয়েছে, এই রাতটি ফজর পর্যন্ত শান্তিতে পূর্ণ থাকে। তাই এই সময় ইবাদত করলে আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের সুযোগ তৈরি হয়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (বুখারি, হাদিস: ৩৪)
লাইলাতুল কদর চেনার আলামত
রাসুল (সা.) বলেছেন, “আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে। অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে তা তালাশ করো।” লাইলাতুল কদরের রাত যদি নির্দিষ্ট থাকতো, তাহলে সবাই একটি রাতের জন্যই অপেক্ষায় থাকত, যা শরিয়তসম্মত নয়। তবে অধিকাংশ আলেমদের মতে ২৬ রমজানের দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৭ রমজানের রাতই লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নিশ্চিতভাবে শবে কদরের রাত লাভ করা সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই জানেন, সেই কাঙ্ক্ষিত রাত কবে আসবে।
বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে কদরের রাত চেনার কিছু আলামতের কথা পাওয়া গেছে-
- কদরের রাত গভীর অন্ধকার থাকবে না।
- মৃদু বাতাস প্রবাহিত হবে। সে রাত হবে নাতিশীতোষ্ণ।
- মানুষ সে রাতে ইবাদত-বন্দেগিতে তৃপ্তি পাবে।
- এ রাতে কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কদরের রাত সম্পর্কে জানাতে পারেন।
- এ রাতে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি হতে পারে।
- সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত।
লাইলাতুল কদরের রাতে কি কি আমল করবেন
পবিত্র এ রাতে যেকোনো নফল ইবাদত বেশি বেশি করা উচিত। যেসব আমলগুলো করতে পারেন-
- নফল নামাজ পড়া।
- মসজিদে ঢুকেই ২ রাকাত (দুখুলিল মাসজিদ) নামাজ পড়া।
- দুই দুই রাকাত করে (মাগরিবের পর ৬ রাকাত) আউওয়াবিনের নামাজ পড়া।
- রাতে তারাবির নামাজ পড়া।
- শেষ রাতে সাহরির আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।
- সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ পড়া।
- সম্ভব হলে তাওবার নামাজ পড়া।
- সম্ভব হলে সালাতুল হাজাত পড়া।
- সম্ভব হলে সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।
- কুরআন তেলাওয়াত করা। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাসির, সুরা ইয়াসিন, সুরা ত্বহা, সুরা আর-রাহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা কুরাইশ এবং ৪ কুল পড়া।
- দরূদ শরিফ পড়া।
- তাওবাহ-ইসতেগফার পড়া। সাইয়্যেদুল ইসতেগফার পড়া।
- জিকির-আজকার করা।
- কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত দোয়াপড়া।
- পরিবার পরিজন, বাবা-মা ও মৃতদের জন্য দোয়া করা, কবর জেয়ারত করা।
- বেশি বেশি দান-সদকা করা।
লাইলাতুল কদরের রাতের দোয়াসমূহ-
জীবনের সমস্যা সমাধানের দোয়া
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ
উচ্চারণ: ইয়া হাইই ইয়া ক্বাইয়্যুম বি রাহমাতিকা আসতাগীস, আসলিহ লি শানি কুল্লাহ, ওয়ালা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আঈনিন।
অর্থ: “হে চিরঞ্জীব, হে চিরপ্রতিষ্ঠিত সত্তা! আমি আপনার দয়া চাই। আমার সব সমস্যা ঠিক করে দিন আর আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও আমার নিজের হাতে ছেড়ে দেবেন না।” (সুনানে তিরমিজি: ৩৫২৪)
নামাজ শেষে পড়ার দোয়া
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিক
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার জিকির করতে, আপনার শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন”।
পিতা, মাতা ও সকল মুমিনের জন্য দোয়া
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
উচ্চারণ: রব্বানাগ-ফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিস।
অর্থ: “হে আমাদের পালনকর্তা! হিসাব কায়েমের দিনে (হাশরের মাঠে) আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সমস্ত মুমিনকে ক্ষমা করে দিন।”
বদনজর, শয়তানের অনিষ্ট এবং বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতি থেকে রক্ষার দোয়া
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِ
شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَّامَّةٍ
উচ্চারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত-তাম্মাতি, মিন কুল্লি শাইতানিওঁ ওয়া হাম্মাতিন, ওয়া মিন কুল্লি আইনিল্লাম্মাহ।
অর্থ: “আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে (আমি আশ্রয় চাচ্ছি) প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং ক্ষতিকর বদনজর থেকে”।
ছোট-বড় জানা-অজানা শিরক থেকে বাঁচার দোয়া
اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ اَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَ اَنَا أَعْلَمُ وَ اَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আলামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আলামু।
অর্থ : “হে আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় তোমার সঙ্গে শিরক করা হতে তোমারই কাছে আশ্রয় চাই। আর অজানা অবস্থায়ও তোমার সঙ্গে শিরক করা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি”।
ক্ষমা চাওয়ার দোয়া
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়াতুবু ইলাইহি।
অর্থ: “আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর কাছেই তওবা করছি”।
আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা পাওয়ার দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ وَالْعَمَلَ الَّذِى يُبَلِّغُنِى حُبَّكَ اللَّهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ إِلَىَّ مِنْ نَفْسِى وَأَهْلِى وَمِنَ الْمَاءِ الْبَارِدِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাক। ওয়া হুব্বা মান ইয়ুহিব্বুক। ওয়াল আমালাল্লাজি ইয়ুবাল্লিগুনি হুব্বাক। আল্লাহুম্মাজআল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়া মিন নাফসি ওয়া আহলি ওয়া মিনাল মা-ইল বারিদ।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার ভালোবাসা চাই এবং আপনাকে যে ভালোবাসে তার ভালোবাসা চাই ও সেই আমলের ভালোবাসা চাই যে আমল আপনার ভালোবাসার পাত্র করে দেয়। হে আল্লাহ! আপনার ভালোবাসা আমার নিকট যেন আমার নিজের জীবন এবং পরিবার এবং শীতল পানি থেকেও প্রিয় হয়।”
সুরক্ষিত থাকার দোয়া
أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق
উচ্চারণ: আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত্ তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।
অর্থ: “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের উসীলায় তাঁর সৃষ্ট সবকিছুর অনিষ্টতা থেকে তাঁরই কাছে আশ্রয় কামনা করছি।”
সুস্থতার দোয়া
اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ি; আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্বাবারি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।
অর্থ: “হে আল্লাহ, আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।”
সন্তানের জন্য দোয়া
رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِّنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُم مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ
উচ্চারণ: রাব্বানা লিয়ুকিমুস সালাতা ফাঝআল আফইদাতাম মিনান নাসি তাহওয়ি ইলাইহিম ওয়ারযুক্হুম মিনাস সামারাতি লাআল্লাহুম ইয়াশকুরুন।
অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক! তারা (সন্তান-সন্তুতি) যাতে নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। কাজেই তুমি মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও। আর ফল-ফলাদি দিয়ে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা কর; যাতে তারা (আল্লাহ তাআলার) শুকরিয়া আদায় করতে পারে।”
সফলতার জন্য দোয়া
رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ وَاجْعَل لِّي مِن لَّدُنكَ سُلْطَانًا نَّصِيرً
উচ্চারণ: রাব্বি আদখিলনি মুদখালা সিদকিও ওয়া আখরিঝনি মুখরাঝা সিদকিও ওয়াঝ্আললি মিল্লাদুংকা সুলত্বানান নাসিরা।
অর্থ: “হে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রবেশ করাও (যেকোনো কাজে) সততার সাথে এবং আমাকে বের করো (সে কাজ থেকে) সততার সাথে এবং তোমার কাছ থেকে আমাকে সাহায্যকারী শক্তি দান করো”।
লাইলাতুল কদর নিয়ে ভুল ধারনা
প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়েই মহিমান্বিত এই রাতের বরকত হাসিলের আকাঙ্ক্ষা থাকে। তবে এই রাতকে কেন্দ্র করে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে আমাদের সমাজে।
- নির্দিষ্ট কোনো দিনে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা- অনেকে রমজানের ২৭ তম রাতকেই নিশ্চিত লাইলাতুল কদর মনে করেন। অথচ বিষয়টি সঠিক নয়। রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাতেই হতে পারে লাইলাতুল কদর। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা মাহে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’ (বুখারি: ২০১৭)
- গোসলের বিশেষ ফজিলত- লাইলাতুল কদরে গোসল করার বিশেষ ফজিলত ও সওয়াব আছে বলে মনে করেন অনেকে। ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি সঠিক নয়। যারা ফজিলতের কথা বলেন, তাদের দলিল হলো, একটি দুর্বল হাদিস, যা মূলত রমজানের শেষ দশ রাতের প্রতি রাতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে নবীজির গোসল করার কথা জানায়। (ইবনে রজব) তবে এর সঙ্গে শবে কদরের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এর কোনো ফজিলতও বর্ণিত হয়নি।
- বিশেষ নিয়মে নামাজ আদায় করা- কদরের রাতের বিশেষ নামাজ, এর নিয়ত, নিয়ম, রাকাতসংখ্যা, বিশেষ সুরা ইত্যাদি নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। কেউ কেউ বলেন, এক রাকাতে সুরা কদর অন্য রাকাতে সুরা ইখলাস পড়তে হবে। ইসলামে এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। শবে কদরে ইবাদতের কথা থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো ইবাদতের উল্লেখ নেই। (আবদুল হাই লখনবি, আল-আসার: ১১৫)। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যেকোনো নফল ইবাদতই করা যাবে।
FAQ – শবে কদর নিয়ে কিছু বহুল আলোচিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: শবে কদর নামের অর্থ কি?
উত্তর: “শব” মানে রাত, আর “কদর” মানে মর্যাদা বা সম্মান। তাই শবে কদর অর্থ মর্যাদাপূর্ণ রাত।
প্রশ্ন: কেন শবে কদর এর রাতকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলা হয়?
উত্তর: কারণ এই রাতে করা ইবাদতের সওয়াব ৮৩ বছরের বেশি সময়ের ইবাদতের থেকেও বেশি হতে পারে।
প্রশ্ন: শবে কদরে কি কুরআন নাজিল হয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ। এই রাতেই আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফুজ থেকে পৃথিবীর আসমানে কুরআন নাজিল শুরু করেন।
প্রশ্ন: শবে কদরে ফেরেশতারা কেন পৃথিবীতে আসেন?
উত্তর: এই রাতে আল্লাহর হুকুমে অনেক ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং তারা ইবাদতকারীদের জন্য দোয়া করেন।
প্রশ্ন: শবে কদরের রাত কেমন হয়?
উত্তর: হাদিস অনুযায়ী এই রাত শান্ত এবং রহমতে পরিপূর্ণ থাকে।
প্রশ্ন: শবে কদরের রাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কি?
উত্তর: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নামাজ, দোয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
প্রশ্ন: শবে কদরে কোন দোয়া বেশি পড়া উচিত?
উত্তর: রাসুল (সা.) এই দোয়াটি বেশি পড়তে বলেছেন:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি”
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে পছন্দ করেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন”
প্রশ্ন: শবে কদরে কি সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়?
উত্তর: যদি কেউ সত্যিকারের অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে অনেক গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন: শুধু ২৭ রমজানেই কি শবে কদর?
উত্তর: অনেক মানুষ ২৭ রমজানকে বেশি গুরুত্ব দেয়। কিন্তু হাদিস অনুযায়ী শেষ ১০ রাতের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর খোঁজা উচিত।
প্রশ্ন: শবে কদরে কি ইতিকাফ করা ভালো?
উত্তর: হ্যাঁ। রাসুল (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করতেন, যাতে শবে কদর পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: শবে কদরে কি ভাগ্য নির্ধারণ হয়?
উত্তর: হ্যাঁ। অনেক আলেমের মতে এই রাতে মানুষের আগামী এক বছরের তাকদির (রিজিক, মৃত্যু ইত্যাদি) লিপিবদ্ধ করা হয়।
প্রশ্ন: শবে কদরে কি মসজিদে ইবাদত করতেই হবে?
উত্তর: না। মসজিদে করলে ভালো, তবে বাসায় থেকেও ইবাদত করা যায়।
