চাঁদরাত ও ঈদের দিনের গাইডলাইন

চাঁদরাতে করণীয় আমল, ফিতরা আদায়, ফিতরার গুরুত্ব ও ফজিলত, ফিতরা কাদের দেওয়া উচিত, ঈদের দিনের সুন্নত ও আমল, ঈদের নামাজের নিয়ম, ঈদের দিনে কোন কাজগুলো করা উচিত নয় এবং আলোচিত কিছু প্রশ্ন-উত্তর সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই গাইডলাইনে।

চাঁদরাতে করণীয় আমল

নতুন চাঁদকে আরবিতে বলে ‘হিলাল’। ‘হিলাল’ হচ্ছে এক থেকে তিন তারিখের চাঁদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো, চাঁদ দেখে রোজা ছাড়ো, ইফতার করো বা ঈদ করো।’ যে সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ দেখা যায়, সে রাত হলো ‘চাঁদরাত’। চাঁদরাতে যে আমল করবেন-

  • চাঁদরাতের প্রথম সুন্নত ও ফরজে কিফায়া আমল হলো সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ দেখা। চাঁদ দেখলে বা চাঁদ দেখার সংবাদ নিশ্চিত হলে দোয়া পড়া সুন্নত। (তিরমিজি: ৩৪৫১)
  • ঈদের চাঁদ দেখার পর রাসুলুল্লাহ (সা:) এই বিশেষ দোয়াটি পাঠ করতেন, যা শান্তি, ঈমান ও নিরাপত্তার বার্তা দেয়।”আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, ওয়াত তাওফীকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রব্বি ওয়া রব্বুকাল্লাহ।” অর্থ: “আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ! আপনি এই চাঁদকে আমাদের ওপর শান্তি, ঈমান, নিরাপত্তা ও ইসলামের সাথে উদিত করুন এবং আপনি যা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন, সেই তাওফিক আমাদের দান করুন। (হে চাঁদ!) আমার ও তোমার রব হলেন আল্লাহ”।
  • রমজানের ঈদের রাতে পুরুষদের মাগরিব, এশা ও ফজর নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে পড়ার চেষ্টা করা উচিত। নারীরাও ঘরে ফরজ নামাজ আদায় করবেন।
  • রাতের ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে পবিত্রতা অর্জন করা এবং ইবাদতের উপযোগী ভালো কাপড় পরা সুন্দর একটি আমল।
  • মাগরিবের পর আউওয়াবিন নামাজ পড়া।
  • শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার চেষ্টা করা।
  • রাত জেগে অন্যান্য নফল ইবাদত, যেমন দুই রাকাত করে যতটুকু সম্ভব নফল নামাজ, তাহ্যিয়াতুল ওযু, তওবার নামাজ, সালাতুল হাজাত, সালাতুত তসবিহ, সালাতুস শোকর ইত্যাদি পড়া।
  • কোরআন তেলাওয়াত করা। সুরা ইয়াসিন, সুরা রহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা মুজাম্মিল, সুরা মুদ্দাচ্ছির, সুরা ফাতহ, সুরা নাবা, তিন কুল, আয়াতুল কুরসি, সুরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো ইত্যাদি তেলাওয়াত করা যায়।
  • দোয়া-জিকির ও দরুদ পাঠ। মাসনুন যেকোনো দোয়া এবং বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা যেতে পারে। এছাড়াও হাদিসে বর্ণিত যেকোনো জিকির বা তাসবিহ, তাহলিল ও তাকবির পাঠ করা সবসময়ের জন্যই উত্তম আমল।
  • তাওবা- ইস্তিগফার করা। আল্লাহ তাআলা তাওবা-ইস্তেগফারকারীদের অনেক ভালোবাসেন।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাত- এই পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে; তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৯২৭)

ফিতরা আদায় (ঈদের আগে গুরুত্বপূর্ণ কাজ)

রমজানের রোজা শেষ হওয়ার আগে গরিবের মুখে হাসি ফোটানোর অন্যতম মাধ্যম সাদকাতুল ফিতর। ইসলামে নির্ধারিত পরিমাণ ফিতরা (অর্থ) পেয়ে অসহায় মানুষ পরিবারের প্রয়োজনে ব্যয় করবে। ধনীর সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবে। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। কোরআনুল কারিমে সাকদায়ে ফিতর দ্বারা পরিশুদ্ধ-পবিত্র হওয়ার কথা বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে পরিশুদ্ধ হয়।’ (সুরা আলা : আয়াত ১৪)

মুফাসসিরিনের কেরামের মতে, এ পরিশুদ্ধ দ্বারা সাদকায়ে ফিতরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ, যারা সাদকায়ে ফিতর আদায় করবেন তারাই (রোজা ভুল-ত্রুটি থেকে পরিশুদ্ধ হয়ে) পাবেন সফলতা।

সাদকাতুল ফিতরের গুরুত্ব ও ফজিলত

  • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার যোগানোর জন্য।’ (আবু দাউদ)
  • হযরত জারির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজানের রোজা সাদকাতুল ফিতর আদায় করার আগ পর্যন্ত আসমান-জমিনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে।’ (তারগিব ওয়াত তারহিব)
  • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ঘোষকের মাধ্যমে পবিত্র নগরী মক্কার পথে পথে এ ঘোষণা দেওয়ালেন যে- ‘জেনে রেখো! প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, গোলাম-স্বাধীন, ছোট-বড় সকলের ওপর সাদাক্বায়ে ফিতর অপরিহার্য। (তাহলো)- দুই মুদ (আধা সা) গম কিংবা এক সা অন্য খাদ্যবস্তু।’ (তিরমিজি)
  • হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী- ‘তুহরাতুল্লিস সায়িম’ অর্থাৎ একমাস সিয়াম সাধনায় মুমিনের অনাকাঙ্খিত ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা হলো সাদকায়ে ফিতর।
  • হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী- ‘তুমাতুল্লিলমাসাকিন’ অর্থাৎ সমাজের অসহায়, দুঃস্থ-দরিদ্র জনগোষ্ঠি যাতে বছরান্তে একটি দিন অন্তত খেয়ে-পরে আনন্দ উদযাপন করতে পারে।
  • দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পরে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক পানাহারের অনুমতি মিলায় তার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সাদকায়ে ফিতর আদায় করা।

ফিতরা ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে বা রমজান মাসের শেষ দিন সূর্যাস্তের পর থেকে ঈদের নামাজে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রদান করা ওয়াজিব। তবে রমজান মাসের শুরু থেকেও আগাম ফিতরা দেওয়া জায়েজ, যাতে গরিবরা ঈদের কেনাকাটা করতে পারে। ঈদের নামাজের পর ফিতরা দিলে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে।

ফিতরা যাদের দিতে হবে

  • ফকির- প্রয়োজন পূরণ হতে পারে এমন সম্পদ বা উপযোগী হালাল উপার্জন না থাকা ব্যক্তিদের ফকির বলা যায়। তারা জীবন ধারণের জন্য অপরের ওপর নির্ভরশীল।
  • মিসকিন- কোনো ব্যক্তির কাছে থাকা সম্পদ দিয়ে তার ওপর নির্ভরশীল লোকদের প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট না হলে তাকে মিসকিন বলা যায়।
  • ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি- ঋণের ভারে জর্জরিত, যার ঋণ পরিশোধের কোনো অবস্থান নেই- এমন ব্যক্তিকে সাহায্য করা যাবে।
  • যাকাত ওঠানোয় নিয়োজিত ব্যক্তি- যাকাত আদায়কারী, সংরক্ষণকারী, পাহারাদার, লেখক, হিসাবরক্ষক এবং তার বণ্টনকারী সবাইকে যাকাতের ফান্ড থেকে বেতন দিতে হবে। তবে তাকে মুসলিম হতে হবে; পূর্ণ বয়স্ক ও সুস্থ বিবেকসম্পন্ন হতে হবে, যাকাতের বিধান সম্পর্কে ইলম থাকতে হবে।
  • দাসমুক্তি- যে ক্রীতদাস তার মুক্তিলাভের জন্য অর্থ দেয়ার বিনিময়ে চুক্তিবন্ধ হয়েছে কিংবা কোনো মুসলিম যুদ্ধবন্দিও এ খাতের আওতায় পড়বে। ইবনুল আরাবির মতে, মুসলিম দাসকে যখন মুক্ত করতে যাকাতের খাত থেকে দেয়া যাবে, ঠিক তেমনি মুসলিম বন্দিকে কাফিরদের দাসত্ব শৃঙ্খলা ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্ত করার কাজেও যাকাতের অর্থ ব্যয় করা অধিক উত্তম।
  • চিত্ত আকর্ষণ করার প্রয়োজনে- যাদের মন ইসলামের প্রতি আকর্ষণ করা প্রয়োজন কিংবা ইসলামের ওপর তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য লোকদের যাকাতের খাত থেকে দেয়া যাবে। ইমাম যুহরির মতে, যে ইহুদি বা খ্রিস্টান ইসলাম কবুল করবেন, সে-ই এর মধ্যে গণ্য, সে যদি ধনী হয় তবুও।
  • আল্লাহর পথে খরচ- আল্লাহর পথ বলতে আকিদা বিশ্বাস ও কাজের দিক দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয় যে পথ।
  • মুসাফিরদের জন্য- নিজ আবাসস্থলে সম্পদ আছে, এমন ব্যক্তি যদি সফরে গিয়ে বিপদগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়, তবে তাকে যাকাতের তহবিল থেকে সাহায্য করা যাবে।

সুরা তাওবার ৬০ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যাকাত হলো কেবল ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য, এই হলো আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ এ আয়াতে যাকাতের ৮টি খাতের বিবরণ তুলে ধরেছেন আল্লাহ তাআলা। আর সেই লোকেরাই ফিতরা গ্রহণ করতে পারবেন।

ঈদের দিনের সুন্নত ও আমল

ঈদের দিনের ১৩টি সুন্নত, যা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমল করতেন।

  • অন্যদিনের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া। (বায়হাকি -৬১২৬)
  • মিসওয়াক করা। (তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৩৮)
  • গোসল করা। (ইবনে মাজাহ ১৩১৫)
  • শরীয়তসম্মত সাজসজ্জা করা। (বুখারি ৯৪৮)
  • সামর্থ অনুপাতে উত্তম পোশাক পরিধান করা। (বুখারি ৯৪৮, মুস্তাদরাকে হাকেম ৭৫৬০)
  • সুগন্ধি ব্যবহার করা। (মুস্তাদরাকে হাকেম ৭৫৬০)
  • ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার আগে মিষ্টি জাতীয় যেমন খেজুর ইত্যাদি খাওয়া। (বুখারি ৯৫৩, তিরমিজি ৫৪২, সুনানে দারেমি ১৬০৩)
  • সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া। (আবু দাউদ ১১৫৭)
  • ঈদুল ফিতরে ঈদগাহতে যাওয়ার পূর্বে সদকায়ে ফিতর আদায় করা। (দারাকুতনি ১৬৯৪)
  • ঈদের নামাজ খোলা ময়দানে বা ঈদগাহে আদায় করা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত। তবে জায়গা সংকট, বৃষ্টি বা বিশেষ কোনো কারনে মসজিদে নামাজ পড়লে কোনো সমস্যা নেই। (বুখারি ৯৫৬, আবু দাউদ ১১৫৮)
  • যে রাস্তায় ঈদগাহতে যাবে, সম্ভব হলে ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা। (বুখারি ৯৮৬)
  • হেঁটে যাওয়া। (আবু দাউদ ১১৪৩)
  • ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাবার সময় আস্তে আস্তে এই তাকবীর পড়তে থাকা- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ। অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্যিকার মাবুদ নেই। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আর সমস্ত প্রশংসা শুধু তাঁরই জন্য। (মুস্তাদরাকে হাকেম ১১০৫)

ঈদের নামাজের নিয়ম

ঈদের নামাজ খোলা জায়গা, মসজিদ কিংবা যেখানেই পড়া হোক না কেন, অবশ্যই তা জামাতের সঙ্গে পড়তে হবে। ঈদের নামাজের জন্য কোনো আজান ও ইকামত নেই। তবে জুমার নামাজের মতোই উচ্চ আওয়াজে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। তবে ঈদের নামাজের পার্থক্য হলো অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দিতে হবে। প্রথম রাকাতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে অতিরিক্ত তিন তাকবির দিয়ে সুরা ফাতিহা পড়া। দ্বিতীয় রাকাতে সুরা মেলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিয়ে রুকতে যাওয়া।

ঈদের নামাজের নিয়ত

“ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি…আল্লাহু আকবার।”

প্রথম রাকাত

  • তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার )- ঈদের নামাজে নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধা।
  • সানা পড়া- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।
  • অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া- এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নেওয়া।
  • আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া
  • সুরা ফাতিহা পড়া
  • সুরা মেলানো। তারপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সিজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করা।

দ্বিতীয় রাকাত

  • বিসমিল্লাহ পড়া
  • সুরা ফাতিহা পড়া
  • সুরা মেলানো।
  • সুরা মেলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া। প্রথম রাকাতের মতো দুই তাকবিরে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া; অতঃপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে হাত বাঁধা।
  • তারপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাওয়া।
  • সিজদা আদায় করে তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।
  • তাকবিরের বাংলা উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ
  • তারপর খুতবা। ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম খুতবা দেবেন আর মুসল্লিরা খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শুনবেন।
  • দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ ছয়টি অতিরিক্ত ওয়াজিব তাকবিরসহ আদায় করতে হয়। ঈদের নামাজের অতিরিক্ত ওয়াজিব তাকবিরে ভুল হলে অর্থাৎ তাকবির কম বা বেশি হলে অথবা বাদ পড়লে সাহু সিজদা প্রয়োজন নেই।

ঈদের দিন যে কাজগুলো করবেন না

রোজা রাখা

রমজানের পুরো মাস রোজা রাখার পর ঈদ মোমিন বান্দার জন্য আনন্দের দিন। তাই আল্লাহ তায়ালা ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) দুদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। তা হলো, ঈদুল ফিতরের দিন এবং কোরবানির ঈদের দিন। (মুসলিম : ১১৩৮)

বিজাতীয় আচরণ প্রদর্শন

ঈদকে কেন্দ্র করে বিজাতীয় আচরণ মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে মুসলমানদের অনেকেই। আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ (আবু দাউদ : ৪০৩৩)

খোলামেলা পোশাক পরা

ঈদের দিন নারীরা ব্যাপকভাবে বেপর্দা অবস্থায় রাস্তাঘাটে খোলামেলা ঘোরাফেরা করে। এ থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজের অধীন মেয়েদেরও বিরত রাখতে হবে। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন মুর্খতার যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’ (সুরা আহজাব : ৩৩)

অপচয়-অপব্যয়

ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এ উপলক্ষে সবকিছুতেই অপচয়-অপব্যয় করা হয়। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা কোনোভাবেই অপব্যয় করো না, নিশ্চয় অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৬-২৭) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তোমরা পানাহার কর, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ : ৩১)

মদ ও আতশবাজি

ঈদের আনন্দে মদ খাওয়া, জুয়া খেলা, আতশবাজি ফাটানো শরিয়তবিরোধী কাজ। শুধু ঈদ নয়, অন্য কোনো দিনও এসব করা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তিরগুলো তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর; যাতে সফলকাম হও।’ (সুরা মায়িদা : ৯০)

FAQ – বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমুহ

প্রশ্নঃ চাঁদরাতে কী কী আমল করা ভালো?

উত্তরঃ চাঁদরাতে কিছু ভালো আমল করা যায়, যেমন-

  • বেশি বেশি তাকবির পড়া
  • নফল নামাজ পড়া
  • কুরআন তিলাওয়াত
  • আল্লাহর কাছে দোয়া ও তওবা করা

প্রশ্নঃ চাঁদরাতে কি বিশেষ কোনো দোয়া আছে?

উত্তরঃ চাঁদরাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। তবে এই রাতে বেশি বেশি দোয়া, তওবা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উত্তম।

প্রশ্নঃ ফিতরা কখন দিতে হয়?

উত্তরঃ ফিতরা ঈদের নামাজের আগে দেওয়া সবচেয়ে উত্তম। যদি কেউ ঈদের নামাজের পরে ফিতরা দেয়, তাহলে সেটি সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে, ফিতরা হিসেবে নয়।

প্রশ্নঃ ফিতরা কাদের দেওয়া যায়?

উত্তরঃ ফিতরা দেওয়া যায় গরিব ও অসহায় মানুষকে। যারা যাকাত পাওয়ার অধিকারী, তারাই ফিতরারও হকদার। পরিবারের গরিব আত্মীয়দের দেওয়াও উত্তম।

প্রশ্নঃ ঈদের নামাজ কয় রাকাত?

উত্তরঃ ঈদের নামাজ দুই রাকাত।

প্রশ্নঃ ঈদের নামাজে কয়টি তাকবীর দিতে হয়?

উত্তরঃ ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবীরের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, সাধারণত ৬টি অতিরিক্ত তাকবীর (ওয়াজিব) দেওয়া হয়। তবে, প্রথম রাকআতে ৭টি এবং দ্বিতীয় রাকআতে ৫টি, মোট ১২টি অতিরিক্ত তাকবীর দেওয়াও অনেক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ও উত্তম।

প্রশ্নঃ ঈদের নামাজ ছুটে গেলে কী করবো?

উত্তরঃ যদি কেউ ঈদের জামাতে অংশ নিতে না পারে, তাহলে অনেক আলেমের মতে সে ঘরেও দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে পারে।

প্রশ্নঃ মেয়েরা কি ঈদের নামাজ পড়তে পারে?

উত্তরঃ হ্যাঁ। ইসলামে নারীদেরও ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার অনুমতি রয়েছে, তবে শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।

প্রশ্নঃ ঈদের দিনে কোন কাজগুলো করা ভালো?

উত্তরঃ গরিবদের সাহায্য করা, আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া, পরিবারকে সময় দেওয়া এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ভালো কাজ।

প্রশ্নঃ ঈদের দিনে কি রোজা রাখা যায়?

উত্তরঃ না। ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রাখা হারাম।

প্রশ্নঃ ফিতরা কত টাকা দিতে হয়?

উত্তরঃ ফিতরার পরিমাণ প্রতি বছর দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।

প্রশ্নঃ ফিতরা না দিলে কি হবে?

উত্তরঃ ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। তাই ঈদের আগে ফিতরা দেওয়া উচিত, যাতে গরিব মানুষও ঈদের আনন্দ করতে পারে।

প্রশ্নঃ ফিতরা কি পরিবারের সবার পক্ষ থেকে দিতে হয়?

উত্তরঃ হ্যাঁ। পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে পারেন।

প্রশ্নঃ ২০২৬ সালের ফিতরার পরিমান কত? কিভাবে জানবো?

উত্তরঃ “আমার দ্বীন” অ্যাপে বিস্তারিত ফিতরা ও যাকাতের পরিমাণ দেওয়া আছে। অ্যাপটি ডাউনলোড করে নির্ধারিত পরিমাণগুলো সহজেই জানা যাবে।